
০১- রফিকের ভয়ে তটস্থ সাংবাদিক থেকে খোদ সরকারি কর্মকর্তারাও
০২- ফাঁস হওয়া রেকর্ডে দম্ভোক্তি: ‘আমিও তো ফ্যাসিস্ট’
০৩- মানিককে মিথ্যা মামলা ও মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ কথিত সম্পাদকের বিরুদ্ধে
০৪- সংঘবদ্ধ চক্রের টার্গেট সিভিল সার্জন ও অফিস সহকারী মেহেদী
০৫- রাজধানী প্রাইভেট হাসপাতালের অনিয়মের তদন্ত ধামাচাপা দিতে চলছে অপপ্রচার
০৬- শালা-দুলাভাই সিন্ডিকেটের চক্করে অসহায় স্বাস্থ্য বিভাগ
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া একটি কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত কল রেকর্ডে জনৈক বিল্লাল হোসেন মানিকের স্বীকারোক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে কীভাবে জনৈক খায়রুল আলম রফিক ওরফে ‘কথিত সম্পাদক’ রফিক ও তার সিন্ডিকেট মাদক মামলা, গ্রেফতার এবং অপপ্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হচ্ছে।
কল রেকর্ডে শোনা যায়, যুবলীগ নেতা ও মাদক মামলার আসামি থেকে ‘নব্য সাংবাদিক’ বনে যাওয়া বিল্লাল হোসেন মানিক বলছেন, “আমিও তো ফ্যাসিস্ট। রফিকের কথার বাইরে গেলেই বিপদ।” মানিক স্বীকার করেন যে, একবার রফিকের মতের বিরুদ্ধে যাওয়ায় তাকে মাদক দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে জেল খাটানো হয়েছিল। তিনি আরও জানান, রফিকের কথামতো চললে বিপদ নেই, বরং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।
অনুসন্ধানে ও কল রেকর্ডের ভাষ্যমতে জানা যায়, ২০২৫ সালে সাবেক এক কাপড় ব্যবসায়ীকে দিয়ে দৈনিক প্রলয় পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মির্জা সোবেদ আলীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করান রফিক। ওই গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানিক তার নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে রফিক তাকে র্যাব দিয়ে মাদকসহ গ্রেফতার করান বলে অভিযোগ ওঠে। জেল থেকে বের হয়ে মানিক এখন রফিকের সাথে মিশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মনগড়া অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, রাজধানী প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক আরিফুল ইসলামের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন এবং সিভিল সার্জন অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে এই চক্রটি। মূলত হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে চলমান তদন্ত প্রতিবেদন ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এই অপপ্রচারের ছক আঁকা হয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটি ফেসবুক ও নামসর্বস্ব পোর্টাল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেয়। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য থাকে ব্লাকমেইল অথবা প্রশাসনিক চাপের সৃষ্টি করা। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভোল পাল্টে এই চক্রটি ‘নব্য সাংবাদিক’ পরিচয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান জানান, ”শালা-দুলাভাই সিন্ডিকেটের চক্করে আমরা অসহায়। জাকির হোসেন, তার শ্যালক রফিক এবং রফিকের শ্যালক আনিছুর রহমানের ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে আমরা বলির পাঁঠা হচ্ছি। একদিকে আনিছুর রহমান রাজধানী হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করছেন, অন্যদিকে রফিক ওই হাসপাতালের মালিকের সাথে হাত মিলিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন।
এবিষয়ে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ ফয়সার আহামেদ রাজধানী প্রাইভেট হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করেন আনিছুর রহমান। অভিযোগের পর থেকে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু হয়। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কমিটি এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি। তদন্ত কমিটি জানিয়েছে অভিযোগকারী তদন্ত কর্মকর্তা বরাবর সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন। যেখানে তদন্তে উপস্থিত যাতে হতে নাপারে সেজন্য নাকি মামলা করিয়েছে রাজধানী কর্তৃপক্ষ। অভিযোগটি তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের কাছে এই কথিত সম্পাদক রফিক ও তার সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আরো জানুন…
দৈনিক প্রলয় পত্রিকা ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় জিডি
‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার কথিত ভূয়া সম্পাদকের প্রতারণা জালিয়াতি, আইজিপি বরাবর অভিযোগ
‘প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল
‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার কথিত ভূয়া সম্পাদকের প্রতারণা জালিয়াতি, আইজিপি বরাবর অভিযোগ
ময়মনসিংহে রাজধানী প্রাইভেট হাসপাতালের অনিয়ম ঢাকতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘সাজানো’ মামলা
ময়মনসিংহে সিভিল সার্জন অফিসের সেই সুলতানের ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে সাইফুল-জাকির সিন্ডিকেট
‘ফ্যাসিস্ট রফিক’ সিন্ডিকেটের ব্ল্যাকমেইলিং ও অপপ্রচারের জাল: অস্থিরতায় সরকারি কর্মকর্তারা
Somajer Alo24