
লেখক- আবুল কালাম মোহাম্মদ সাজেদুল হক
বাংলাদেশে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন এবং সম্পত্তি আত্মসাৎ একটি দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক সমস্যা। নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গারো আদিবাসী পরিবারের উপর সাম্প্রতিক হামলা ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের ঘটনা এটি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে যে, আদিবাসীদের উপর নিপীড়ন এখনো চলমান। এই প্রবন্ধে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার, তাদের প্রতি নিপীড়ন ও নির্যাতন এবং এর সমাধান নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হবে।
বাংলাদেশের আদিবাসীরা বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রাম, উত্তরাঞ্চল এবং সিলেট অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই বসবাস করে আসছে। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা এবং জীবনধারা রয়েছে, যা দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর থেকে আলাদা। তবে আদিবাসীরা সামাজিকভাবে বরাবরই দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তাদের ওপর ভূমি নিয়ে অত্যাচার ও নির্যাতনের ইতিহাস বহু পুরনো। আদিবাসীদের সম্পত্তি দখল করে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের ক্ষমতা ও সম্পদ বৃদ্ধি করে চলেছে, যা তাদের জীবনযাত্রার উপর চরম প্রভাব ফেলে।
আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি ব্যবস্থাপনা রয়েছে যা তাদের ঐতিহ্যগত এবং সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। তবে বাংলাদেশের সাধারণ আইনকানুন আদিবাসীদের এই প্রথাগত অধিকারগুলোর সুরক্ষা দিতে পারে না। ফলে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে আদিবাসীদের জমি ও সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করছে।
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গারো আদিবাসী পরিবারের উপর হামলার ঘটনাটি আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের সাম্প্রতিক উদাহরণ। এই হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), গারো সংগঠন (গাসু) এবং কলমাকান্দার আদিবাসীরা একত্রিত হযে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে আদিবাসী নেতারা তাদের জমি এবং বসতভিটা রক্ষা এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তামস মানখিন, রিচার্ড রেংচেং, সারথী ঘাগ্রা, শলোমন রিছিল এবং মালেকা ঘাগ্রার মত নেতারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, এ ধরনের হামলা আদিবাসীদের প্রতি করা অবিচার ও শোষণের ফল এবং এটি দ্রুত বন্ধ করা প্রযোজন।
Somajer Alo24