
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ পরিচয় দিয়ে ময়মনসিংহে ব্ল্যাকমেইলিং, চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে বিল্লাল হোসেন মানিক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে নিবন্ধনহীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও অনুমোদনহীন পত্রিকার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিল্লাল হোসেন মানিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাধারণ নাগরিক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, ব্ল্যাকমেইলিং এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তার আয়ের অন্যতম উৎস ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজি। অভিযোগ রয়েছে, নিরীহ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভয় দেখিয়ে কিংবা বিভিন্ন কৌশলে ফাঁসানোর আশঙ্কা তৈরি করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। সম্প্রতি এক নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, একটি মাদ্রাসার শিক্ষককে মিথ্যা অভিযোগে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ময়মনসিংহ শহরের এক পেশাদার সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিল্লাল হোসেন মানিক নিজের পরিচয় বদলে কথিত ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ হিসেবে সক্রিয় হন। সরকারি নিবন্ধন বা অনুমোদনবিহীন কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও পত্রিকার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি ও তার সহযোগীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে মিথ্যা অভিযোগ, সাজানো মামলা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিল্লাল হোসেন মানিক একটি মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মামলার রায় ও বর্তমান আইনি অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং কেন তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
(চলবে…)
Somajer Alo24