মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভুয়া সম্পাদক সেজে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আদালতের নির্দেশে পল্টন থানায় মামলা তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের পরও ব্যবস্থা নিচ্ছেননা বিভাগীয় পরিচালক, অভিযুক্ত কর্মচারীকে বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগ দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তিস্তা-ধরলায় পানি বাড়ায় উত্তরাঞ্চলে বন্যা আতঙ্ক ফরিদপুরে এক পরিবারের হাতে জিম্মি আদালত পাড়া, ন্যায় বিচার বঞ্চিত সাধারণ মানুষ ময়মনসিংহে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি হামলার শিকার সাংবাদিক ওমর ফারুকের অবস্থার অবনতি, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে স্থানান্তর দেশে বাড়ছে নতুন প্রজন্মের সিনথেটিক মাদকের বিস্তার, অনলাইনেই হচ্ছে অধিকাংশ লেনদেন ওটিটি নয়, বড় পর্দায় আসছে অপু বিশ্বাসের ‘শিকার শনিবারের মধ্যে সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ, না মানলে লাইসেন্স বাতিল প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে পারমাণবিক সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল চীন

ভুয়া সম্পাদক সেজে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আদালতের নির্দেশে পল্টন থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • Update Time : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১২৫ Time View

রাজধানীতে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ নামক একটি পত্রিকার ভুয়া সম্পাদক সেজে জাল নিয়োগপত্রের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে মো: খায়রুল আলম রফিক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের কড়া নির্দেশনায় পল্টন থানায় দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬/৪৬৭/৪৬৮/৫০৬ ধারায় এই নিয়মিত মামলাটি (মামলা নম্বর: ০৭, তারিখ: ০৮/০৭/২০২৬) রুজু হয়।

​আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলায় যুক্ত হওয়া ফৌজদারি ধারাগুলো অত্যন্ত গুরুতর। বিশেষ করে ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারা দুটি অ-জামিনযোগ্য এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামির সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। অপরাধের এমন ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামি নিজেকে ভুয়া সম্পাদক দাবি করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জাল প্যাড ও ভুয়া স্বাক্ষরে নিয়োগপত্র তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারা অনুযায়ী, অর্থ প্রাপ্তির ক্ষমতা প্রদানকারী কোনো দলিল জাল করার অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এটি একটি সম্পূর্ণ অ-জামিনযোগ্য (Non-Bailable) অপরাধ।

​এছাড়াও কোনো ব্যক্তিকে প্রতারিত করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে দলিল জালিয়াতি করলে তা ৪৬৮ ধারার আওতাভুক্ত হয়। এই মামলায় আসামির বিরুদ্ধে সুকৌশলে বাদীর বিশ্বাস ভঙ্গ করে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি করার অভিযোগ রয়েছে। এই ধারায় অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। এটিও একটি অ-জামিনযোগ্য অপরাধ।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর বাদী ও সাক্ষীরা তাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামি খাইরুল আলম রফিক তাদের টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং বিভিন্ন প্রকার মারাত্মক ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারা মোতাবেক, মারাত্মক ক্ষতিসাধন বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

মামলার বাদী সংবাদকর্মী মো: শহিদুল ইসলাম (৪৫), পিতা- মৃত আ: মজিদ মোল্লা, বর্তমান ঠিকানা- ৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা। অপরদিকে একমাত্র আসামি মো: খায়রুল আলম রফিক (৫০), পিতা- মৃত ছালিম উদ্দিন, বর্তমান ঠিকানা- ২২ নং ইন্দিরা রোড, ফার্মগেট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।

​মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, আসামি খাইরুল আলম রফিক নিজেকে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার সম্পাদক দাবি করে বাদীকে সহকারী সম্পাদক এবং ৩নং সাক্ষী মির্জা সুবেদ আলী রাজাকে ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এর প্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই ২০২২ তারিখে পল্টনের কার্যালয়ে বাদী ও সাক্ষীর কাছ থেকে মোট ৩০ লক্ষ টাকা নগদ গ্রহণ করে একটি নিয়োগপত্র প্রদান করেন। বাদী সরল বিশ্বাসে উক্ত পদে প্রায় ২ বছর দায়িত্বও পালন করেন।

​গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি সরকারি স্মারকপত্রের (নম্বর-০৫.৪৫.৬১০০.০১০.০৪.০০৪.১৭-২৭৭/১) মাধ্যমে বাদী নিশ্চিত হন যে, উক্ত পত্রিকার প্রকৃত প্রকাশক ও সম্পাদক হলেন মাহমুদুল হাসান রতন। আসামি খাইরুল আলম রফিক মূলত ওই পত্রিকার কোনো বৈধ পদে নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পরবর্তীতে গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে টাকা ফেরত চাইতে গেলে আসামি তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী প্রথমে পল্টন থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (পল্টন আমলী আদালত) অভিযোগটি আমলে নিয়ে পল্টন থানাকে এফ.আই.আর (FIR) হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

​পল্টন থানা পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Advertise

Ads

Address

প্রধান কার্যালয় :৩৭৯/৩ কলেজ রোড (আমতলা) আশকোনা ঢাকা - ১২৩০ Email:somajeralonews24@gmail.com Contact  :01823634261
© All rights reserved 2026

Somajer Alo24