
ত্রিশাল আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আনিছুজ্জামান আনিছের ক্ষমতার অপব্যবহারের অন্যতম সহযোগী ও তার স্বঘোষিত প্রেস সেক্রেটারি খায়রুল আলম রফিকের অপরাধের ফিরিস্তি ঢাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ। প্রকাশিত নিউজের কোনো তথ্য বা নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই না করে, ওসির সাথে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের খাতিরে রফিকের পক্ষে বিজ্ঞ আদালতে সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট ও একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তারেক হাসান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিজ্ঞ আদালতে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে (সূত্র: সি.আর মোকদ্দমা নং-৩৪৯/২০২৬, ধারা- ৫০০/৫০১/৫০২ পেনাল কোড) তদন্তকারী কর্মকর্তা দাবি করেছেন-বাদী খায়রুল আলম রফিক সাবেক এমপি আনিছের প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন না। অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। সাবেক এমপি আনিছ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার সম্পূর্ণ মিডিয়া উইং নিয়ন্ত্রণ করতেন এই রফিক। নির্বাচনকালীন সময়ে কোন সাংবাদিক কী নিউজ করবেন, কোন সংবাদ কখন প্রকাশিত বা প্রচারিত হবে-সবকিছুর মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি। এমনকি তৎকালীন সময়ে সাবেক এমপিকে প্রকাশ্যে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হুমকি প্রদান এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক স্বার্থে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করার বিস্তর প্রমাণ রয়েছে রফিকের বিরুদ্ধে।
ক্ষমতার দাপটে রাস্তার নামকরণ ও অবৈধ পত্রিকার দাপট
সাবেক এমপি আনিছের অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার সুবাদে রফিকের ক্ষমতার দাপট এতই চরমে পৌঁছেছিল যে, এলাকায় তার নামে রাস্তার নামকরণ পর্যন্ত করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সাবেক এমপি আনিছকে বেআইনি ও অবৈধভাবে একটি পত্রিকার ‘সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি’ বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশনা ব্যবসা ও নানাবিধ অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন রফিক। পুলিশের দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও অকাট্য সত্য বিষয়গুলোর কোনো কিছুই উল্লেখ করা হয়নি, যা পুলিশের চরম পক্ষপাতিত্ব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্তের বহিঃপ্রকাশ।
৫ই আগস্টের পরবর্তী গণ-অসন্তোষের তথ্য গোপন
নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ত্রিশালে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ ফুসে ওঠে। এলাকায় তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জালিয়াতির বিচারের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেখানে খোদ এলাকাবাসী ও ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল, সেই গুরুতর বিষয়টিকেও তদন্ত প্রতিবেদন থেকে সুকৌশলে গোপন রেখেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ।
তদন্ত প্রতিবেদনের মূল অসঙ্গতি ও তথ্য গোপন:
১. প্রেস সেক্রেটারি পদের প্রমাণ গায়েব: রফিক যে সাবেক এমপির সম্পূর্ণ মিডিয়া প্রটোকল ও প্রেস সংক্রান্ত বিষয় দেখতেন এবং তার নামে যে রাস্তার নামকরণ হয়েছিল, সেই প্রকাশ্য সত্যকে তদন্তে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
২. অবৈধ পত্রিকার সুবিধাভোগী: সাবেক এমপিকে সভাপতি করে অবৈধভাবে পত্রিকা চালানোর আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।
৩. একপেশে ও প্রভাবিত তদন্ত: সাবেক ওসির সাথে রফিকের ব্যক্তিগত সখ্যতা থাকায় বিবাদী সাংবাদিকদের (রোজিনা আক্তার, মির্জা সোবেদ আলী রাজা, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ) একতরফাভাবে প্রতিবেদনটি রফিকের পক্ষে সাজানো হয়েছে।
৪. ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়ার তথ্য গোপন: ৫ই আগস্টের পর রফিকের বিরুদ্ধে হওয়া গণ-মানববন্ধনের তথ্য আড়াল করে তাকে সমাজে নিষ্কলঙ্ক প্রমাণের অপচেষ্টা করেছে পুলিশ।
তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং প্রকাশ্য গণ-আন্দোলনের বিষয়গুলোকে ধামাচাপা দিয়ে পুলিশের এমন অসত্য প্রতিবেদন দাখিলের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ত্রিশালের সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওসির ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের খাতিরে আইনের এমন প্রকাশ্য লঙ্ঘন বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীরা এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিলসহ উচ্চতর ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
Somajer Alo24