
ঘুষ না দেওয়ায় পদোন্নতি আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে। বিভিন্ন পদে বেশ কয়েক বছর ধরে শতাধিক কর্মচারীর পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বঞ্চিত কর্মচারীদের দাবি— চাহিত ঘুষের টাকা না পাওয়ায় পদোন্নতি প্রতিবেদনে নানা ভুল ও জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়েছে।
পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন ভুক্তভোগী কর্মচারী জানান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ (মূল পদ: স্বাস্থ্য সহকারী) মফিজ উদ্দিনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। পদোন্নতির বিনিময়ে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১ লক্ষ ৫০ হাজার, স্বাস্থ্য সহকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা, অফিস সহকারীদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা এবং অফিস সহায়কদের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা করে ঘুষ চাওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাহিত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তীতে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি পদোন্নতির নথিপত্রে ভুলত্রুটি রয়েছে এমন অজুহাতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
এদিকে মাঠ পর্যায়ের ও কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘুষ দাবির ঘটনাটি জানাজানি হলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ড. প্রদীপ কুমার সাহা বিভিন্ন উপজেলার কর্মচারীদের ডেকে এনে কথা বলেন এবং টাকা চাওয়ার ঘটনার সত্যতা পান। তবে অভিযোগ রয়েছে, কথা বলার পর তিনি কর্মচারীদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন এবং নির্দেশ দেন যে, এ বিষয়ে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করলে ক্যাশিয়ার মোখলেসুর রহমান অথবা প্রধান সহকারী আবুল কালামের নাম বলতে হবে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যাশিয়ার মোখলেসুর রহমান ও প্রধান সহকারী আবুল কালাম জানান, “স্যার (স্বাস্থ্য পরিচালক) সব থানার কর্মচারীদের ডেকে এনে রুদ্ধদ্বার কক্ষে কথা বলেছেন। ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় ভেতরের আলোচনার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। টাকা তোলার অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ মফিজ উদ্দিন বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। পদোন্নতির বিষয়টি পরিচালক স্যার ভালো বলতে পারবেন, আপনারা উনার সাথে কথা বলুন। স্বাস্থ্য সহকারী ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের কাছে চাহিত টাকার পর আবার ৬ তারিখ বোর্ড গঠন করেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের ডেপুটি সিভিল সার্জন ড. ফয়সাল আহমেদ জানান, “মফিজ উদ্দিন পদোন্নতির নামে টাকা তুলছেন- এমন বিষয় আমার জানা নেই। আমি পদোন্নতি বোর্ডে ছিলাম। হঠাৎ করে কাগজে ভুল আছে জানিয়ে তখন পদোন্নতি স্থগিত করা হয়। ৬ তারিখ পদোন্নতি বোর্ডের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, শুনেছি স্বাস্থ্য সককারী ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এর পদোন্নতি দেয়, সেখানে নতুন সিভিল সার্জন স্যার দায়িত্ব পালন করেছেন । বিস্তারিত জানতে স্যারের সাথে কথা বলতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মচারী বলেন, “সুবিধাজনক স্থানে পোস্টিং পাওয়ার জন্যও আমাদের টাকা দিতে হচ্ছে। আমাদের চাকরির আর মাত্র ২-৩ বছর বাকি আছে। এই বয়সে এসেও আমরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। মূলত ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ মফিজ উদ্দিনের মাধ্যমেই পরিচালক স্যার এই টাকা নিচ্ছেন। এখানে ক্যাশিয়ার মোখলেস ও প্রধান সহকারী আবুল কালামের কোনো দোষ নেই। তাদের ফাসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ড. প্রদীপ কুমার সাহা, সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন “পদোন্নতি কমিটির একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। কমিটির সভায় কিছু নথিপত্র অসম্পূর্ণ পাওয়া গেছে। শুধু মাএ যাদের কাগজ সঠিক পাওয়া গেছে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে আর বাকিগুলো সংশোধন ও হালনাগাদ করে পরবর্তী সভায় পদোন্নতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Somajer Alo24