
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরুল আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সততা, স্বচ্ছতা, কর্মদক্ষতা এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলার ভূমি ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছেন। সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমিয়ে সেবার মান উন্নয়নের কারণে তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের প্রশংসা ও আস্থা অর্জন করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে নানা জটিলতা ও দালালচক্রের কবলে পড়তে হতো। তবে সদরুল আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এখন নামজারি (মিউটেশন), খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এবং তুলনামূলক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনি বেড়েছে ভূমি অফিসের প্রতি মানুষের আস্থা।
ভাঙ্গা উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে সহজেই সরকারি ভূমিসেবা পান, সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন এসিল্যান্ড সদরুল আলম। তিনি নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন এবং দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সেবাবঞ্চিত অনেক মানুষ এখন হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
উপজেলার নদী ও কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কোটি টাকার অবৈধ ড্রেজার, পাইপলাইন ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এসব অভিযানের ফলে নদী ও ফসলি জমি রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ভূমি প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনস্বার্থে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন সদরুল আলম। মাদক, জুয়া, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, অবৈধ স্থাপনা, বাজার মনিটরিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান জনমনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের কার্যকারিতা আরও দৃশ্যমান করেছেন।
দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরেও অসহায়, ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পরিচিতি পেয়েছেন এই কর্মকর্তা। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প, খাসজমি বন্দোবস্ত এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতার কারণে তিনি মানুষের কাছে একজন আস্থাভাজন কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, সদরুল আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর ভূমি অফিসে সেবার মান বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে। তারা বলেন, “তিনি শুধু অফিসে বসে দায়িত্ব পালন করেন না; মাঠে গিয়ে মানুষের সমস্যা শুনেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন। তাঁর মতো জনবান্ধব কর্মকর্তা প্রশাসনে থাকলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরুল আলম বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের সেবা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। ভূমি অফিসের প্রতিটি সেবা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত রাখতে আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়। তাঁদের মতে, ভাঙ্গা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরুল আলমের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপ প্রশাসনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করেছে।
Somajer Alo24