
ফরিদপু্রের ভাঙ্গায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্ভিক সাংবাদিক গৌতম দাসের ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর সন্ত্রাসীরা ফরিদপুরে দৈনিক সমকাল কার্যালয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ব্যুরো প্রধান গৌতম দাসকে।
প্রয়াত সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যার ১৮ বছর পুর্তি উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুরের ভাঙ্গার চন্ডিদাসদী গ্রামে গৌতমের সমাধিতে দৈনিক সমকাল ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এছাড়াও দিনটি উপলক্ষ্যে ফরিদপুর শহরের শ্রীঅঙ্গন ও বান্ধব পল্লীতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও দুস্থ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন প্রয়াত গৌতম দাসের স্ত্রী দিপালী দাস। গৌতমের জন্মস্থান ভাঙ্গা উপজেলার চন্ডিদাসদী গ্রামে পরিবারের উদ্যোগে তার সমাধিতে পুস্পমাল্য দান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রয়াত গৌতম দাসের নিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আদর্শ অনুসরণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তারা বলেন, সততা, নিষ্ঠা, নির্ভিকতা ও দায়িত্ববোধ ছিল গৌতমের চরিত্রের মৌলিক আদর্শ। গৌতমের আদর্শকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। গৌতমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়াই হবে তার স্মৃতির প্রতি সঠিক শ্রদ্ধা নিবেদন করা।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন- ভাঙ্গার সিনিয়র সাংবাদিক ও গৌতম দাসের সহকর্মী ভাঙ্গার খবর পত্রিকার সম্পাদক মামুনুর রশীদ, দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি প্রফেসর অজয় দাস, যায়যাদিন পত্রিকার প্রতিনিধি প্রফেসর দিলিপ দাস, দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম শাকিল , কমরেড লিয়াকত হোসেন মোল্লা প্রমুখ।
২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর ফরিদপুর শহরে দৈনিক সমকাল ব্যুরো অফিসে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় গৌতম দাসকে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে সাংবাদিকসহ ফরিদপুরের সর্বস্তরের জনতা। পরবর্তীতে এ হত্যা মামলাটি চাঞ্চল্যকর বিবেচনায় ফরিদপুরের আদালত থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৩ সালের ২৭ জুন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নয়জন আসামির সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
Somajer Alo24