
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল কমে আসায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে। প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, নতুন করে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলে। উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢল ও নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের ৪টি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সংলগ্ন আসাম-ত্রিপুরা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে আসায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর প্রধান নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে পানিবন্দি লাখো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ঘরবাড়ি ও গ্রামীণ রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এখনো চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের।
অপরদিকে, ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হিমালয় অববাহিকার নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান তিন নদী— তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। এর ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং রংপুরের চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি যেকোনো সময় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের চরাঞ্চলগুলোতে আগাম জাতের আমন বীজতলা এবং শাকসবজির ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। হঠাৎ করে নদীগুলোর পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের কৃষকেরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের একজন প্রকৌশলী জানান, “দক্ষিণাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের দিকে। তবে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও ধরলা অববাহিকায় পানি আরও বাড়তে পারে, যা বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত করতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
Somajer Alo24