
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে বিষক্রিয়ায় অন্তত ৩১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৯ জন নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। এছাড়া পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জানান, সকালে বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করার পর একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে বমি, বুক ও গলা জ্বালা, মাথা ঘোরা এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষিজমিতে ব্যবহৃত তরল কীটনাশক মিশিয়ে দিয়েছে।
মাহমুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল বলেন, “এটি পরিকল্পিত নাশকতার ঘটনা হতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহামেদ বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমি সকাল ৯টার দিকে ওই নলকূপের পানি পান করলেও অসুস্থ হইনি। তবে সকাল ১০টার পর যারা পানি পান করেছে, তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার বিষয়টি সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে।”
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর জানান, বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ৩১ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের নলকূপে বিষ মেশানোর অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলেনি, বরং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
Somajer Alo24