মিথ্যা মামলা দায়ের ও কাল্পনিক অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে দেশের ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম 'দৈনিক প্রলয়' পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত একটি সংঘবদ্ধ চক্র এবার সরাসরি সরকারের উচ্চপর্যায়ের আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। অবৈধভাবে প্রকাশিত 'দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ' পত্রিকার তথাকথিত ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দাবিদার ও ত্রিশালের সাবেক এমপি আনিছের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি খায়রুল আলম রফিক এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি খায়রুল আলম রফিকের ছবিসহ তার নানামুখী অপকর্ম ও মিথ্যাচারের খতিয়ান তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন দৈনিক প্রলয়ের যুগ্ম সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান। এরপরই বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখার এই কঠোর নির্দেশনা প্রকাশের পর অভিযুক্ত রফিক ও তার সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের সদস্যরা চরম আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়তে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখা থেকে গত ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (২৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) তারিখে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। স্মারক নম্বর: ৪৪.০০.০০০০.০০০.২২৬.২৭.০০০২.২৫.৩৬৭ এর অধীনে প্রেরিত এই চিঠির বিষয়বস্তুতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-
"সাংবাদিক হয়রানি, জালিয়াতি, ভুয়া মামলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলার তদবির করা অসাধু কর্মকর্তাদের ও ফ্যাসিস্টের দোসর খায়রুল আলম রফিক ও সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত।"
মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. শাফিউল আলম স্বাক্ষরিত ওই পত্রে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা) উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, দৈনিক প্রলয়-এর যুগ্ম সম্পাদক মো. আনিসুর রহমানের দাখিলকৃত আবেদনপত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্রে বর্ণিত সকল অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্রুত প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। এই চিঠির সাথে রফিক ও তার চক্রের জালিয়াতির ৩৩ পাতার বিস্তারিত বর্ণনা ও তথ্যপ্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, খায়রুল আলম রফিক ও তার চক্রটি প্রশাসনকে বিভ্রান্ত ও ব্ল্যাকমেইল করে এ পর্যন্ত শতাধিক সাজানো, কাল্পনিক ও ভুয়া অভিযোগ ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে দিনশেষে এই মিথ্যা অভিযোগ ও জালিয়াতির কারণেই রফিক নিজে চরম আইনি খলনায়ক হিসেবে ধরা পড়েছেন। চাঁদাবাজি মামলায় কারাভোগ এবং দ্রুত বিচার আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খায়রুল আলম রফিক ভিষণ চালাক প্রকৃতির এবং খুব সাজানো মিথ্যা নাটকে অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ঘুরছে প্রকাশ্যে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো মামলা বা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে, ফৌজদারি কার্যবিধি ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী সেই মামলার বাদীকেই কারাবরণসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। চলমান পরিস্থিতিতে রফিকের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। দৈনিক প্রলয় পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক তার ফেইসবুক আইডিতে পোস্টের মাধ্যমে সরাসরি এমন ইঙ্গিত দেন।
ত্রিশালের সাবেক বিতর্কিত এমপি আনিছের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে পরিচিত খায়রুল আলম রফিক দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (যেমন: ডিবি পুলিশ) ভুয়া পরিচয় বা ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রশাসনকে ব্ল্যাকমেইল করার এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি-ডউকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অপচেষ্টা চালিয়েছেন। দৈনিক প্রলয় পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে—হুমকি-ধামকি ও চিল্লাইয়া আর পার পাওয়া যাবে না। প্রশাসনকে ব্যবহার করে সাজানো নাটকের সমস্ত থলের বিড়াল এখন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের উচ্চপর্যায়ের তদন্তে বেরিয়ে আসছে।
মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার এই ধারাবাহিক জালিতির বিষয়টি এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দোরগোড়ায়। পুরো বিষয়টি বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর তদন্ত নির্দেশনার পর মহামান্য হাইকোর্ট থেকে যে চূড়ান্ত রায় আসতে যাচ্ছে, তা এই চক্রের সমস্ত মিথ্যা দম্ভ চিরতরে চুরমার করে দেবে এবং নিজের কৃতকর্মের ফল রফিককে ভোগ করতেই হবে।
গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় সুশীল সমাজের জোর দাবি, সাংবাদিকতার পবিত্র সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এবং অবৈধ পত্রিকার ব্যানারে যারা প্রশাসনকে ব্ল্যাকমেইল করছে, সেই খায়রুল আলম রফিকসহ পুরো অপরাধী চক্রকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
Shohidul Islam
SOMAJER ALO24