ময়মনসিংহের ‘রাজধানী প্রাইভেট হাসপাতাল’-এর নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত ধামাচাপা দিতে একজন সাংবাদিকসহ তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা ও পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রটি তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ও অফিস কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও বেনামে নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রলয়’ পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান ওই হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও সংবাদ সংগ্রহ করায় তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা (মামলা নং-১০) দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক গত ১৬ মার্চ ২০২৪ তারিখে ডিএমপি কমিশনারের কাছে এই বিষয়ে একটি লিখিত প্রতিকার প্রার্থনা করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালটির মালিক আসাদুজ্জামান তালুকদার ও তার সহযোগী আরিফুল ইসলাম এবং মো. খায়রুল আলম রফিক মিলে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন। এই চক্রটি ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করতে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন এবং অফিস সহকারী মেহেদী হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের নামে বিভিন্ন দপ্তরে বেনামে অভিযোগ দাখিল করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে চরিত্র হনন ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এছাড়াও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান জানান, খায়রুল আলম রফিক নামের ওই ব্যক্তি এর আগেও একাধিক ব্যক্তির নামে হয়রানিমূলক মামলা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া আনিসুর রহমান যখন ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন, তখন পত্রিকাটির নাম ও প্রকাশকের নাম অবৈধভাবে পরিবর্তন ও জালিয়াতির প্রতিবাদ করায় তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এবিষয়ে আনিসুর রহমান বলেন,"রাজধানী প্রাইভেট হাসপাতালের অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য আজ আমি এবং আমার সহকর্মীরা ফ্যাসিবাদী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামেও রীতিমত হুমকি দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ।
এমনকি নামে বেনামে মিথ্যা সাজানো অভিযোগ করে যাচ্ছে । আমাকে মানসিকভাবে পর্যুদস্ত করতে রাজধানী প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকরা প্রতিদিনের কাগজের কথিত ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খায়রুল আলম রফিককে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সাজানো মামলা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ময়মনসিংহ বলেন, গত ৩ মাস ধরে অপপ্রচার চলছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, আমার অফিসের সাবেক এক কর্মচারী তার বদলী/ পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান নাকরে নিজেই পোস্টার লাগাচ্ছেন( ভিডিওতে দেখেছি)। রাজধানীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরুর পর থেকে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যতই অপপ্রচার হোক সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।
ময়মনসিংহের সচেতন নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে রাজধানী প্রাইভেট হাসপাতালের দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং পেশাদার সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
Shohidul Islam
SOMAJER ALO24