২৪-এর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর দেশ যখন নতুন এক সংকল্প নিয়ে এগোচ্ছে, তখনো পুরনো অভ্যাসে মত্ত একদল অসাধু চক্র। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে খায়রুল আলম রফিকের নাম। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং পরবর্তীতে তাদেরই ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এই চক্রের প্রধান কৌশলে পরিণত হয়েছে। চক্রটি শেরে বাংলা নগর থানার ফার্মগেইট এলাকার ২২ ইন্দিরা রোড, ৩য় তলায় অবৈধভাবে অফিস পরিচালনা করে এসব অপকর্ম করে আসছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই সিন্ডিকেটটি মূলত কয়েকটি ধাপে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
প্রশাসনের সৎ কর্মকর্তাদের সাথে কৌশলে ছবি তুলে নিজেকে প্রভাবশালী জাহির করা এবং কখনো কখনো কর্মকর্তাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা। নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের নামে মনগড়া অভিযোগ তৈরি করে বেনামী পোর্টালে কুৎসিত সংবাদ পরিবেশন করা। পরবর্তীতে সেই সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়।
চিহ্নিত মাদক কারবারীদের পক্ষ নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা। এতে অনেক পেশাদার কর্মকর্তা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও পেশাগত ঝুঁকিতে পড়ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে এই চক্রটি সরাসরি বিরোধিতা করেছে এবং আন্দোলনকারীদের নিয়ে চরম কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। তা সত্ত্বেও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে তাদের অবাধ যাতায়াত জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
প্রশাসনের প্রতি সচেতনতার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা বলেন,
বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মূলমন্ত্র, সেখানে এ ধরনের দালালি চক্রের অস্তিত্ব কাম্য নয়।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি ময়মনসিংহবাসীর বিনীত অনুরোধ: ফ্যাসিস্ট রফিক ও তার চক্রের দেওয়া কোনো মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে যথাযথ তদন্ত করুন।
'ফ্যাসিস্ট' হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের অবৈধ তদবির বা অনুরোধে কোনো নিরপরাধ মানুষের ক্ষতি করবেন না। এই চক্রের আর্থিক লেনদেন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের উৎস খুঁজে বের করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
আরো পড়ুন...
‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার কথিত ভূয়া সম্পাদকের প্রতারণা জালিয়াতি, আইজিপি বরাবর অভিযোগ
ময়মনসিংহে রাজধানী প্রাইভেট হাসপাতালের অনিয়ম ঢাকতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘সাজানো’ মামলা
অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক পাসে সংসদে ‘প্রতিদিনের কাগজের’ বিতর্কিত সম্পাদক
‘প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল
সত্যের সন্ধানে সাংবাদিক সমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, এই চক্রটি যেসকল সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে, তাদের প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন। হলুদ সাংবাদিকতার আড়ালে যারা পেশাদার কর্মকর্তাদের চরিত্র হনন করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা আজ সময়ের দাবি।
"বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ। প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসররা যদি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, তবে শহীদদের রক্ত ও জনমানসের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই থেকে যাবে।"
প্রশাসনের আশেপাশে ঘুরঘুর করা এই অপশক্তির মদদদাতা কারা, তাদেরও চিহ্নিত করার সময় এসেছে। জুলাইয়ের চেতনা সমুন্নত রাখতে এই 'ব্ল্যাকমেইলার' সিন্ডিকেট নির্মূল করা অপরিহার্য।
Shohidul Islam
SOMAJER ALO24