স্টাফ রিপোর্টার
ফুসলিয়ে বিয়ে করার দু বছর পর থেকেই যৌতুকের জন্য অত্যাচার শুরু করেন স্বামী, উপায় না পেয়ে অবশেষে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন
সুমাইয়া আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধু। ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলী আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১১ (গ) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
বাদী সুমাইয়া আক্তার জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের মোঃ হাসান মোল্যার মেয়ে এবং বিবাদী জেলার একই উপজেলার নুরুল্যাগঞ্জ ইউনিয়নের হরুপদিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের পুত্র এ কে এম জাহিদুর রহমান। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। তিনি নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষক।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বিবাদী জাহিদুর রহমানের সাথে ২০২২ সালের ১৭ মে ০৫৮০ নং রেজিঃকৃত এ্যাফিডেফিট মূলে বাদী সুমাইয়ার বিবাহ হয়। বিবাহের সময় স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ ৪ লক্ষ টাকার উপঢৌকন দেওয়া হয়। বর্তমানে তাদের ঘরে সাত মাসের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। যৌতুকলোভী স্বামী গত ২০২৫ এর ২৯ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বাদীকে তাহার বাবার বাড়ি হতে ৫ লক্ষ টাকা এনে দিতে বলে। বাদী সুমাইয়া টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করলে অমানবিক অত্যাচার করে তার স্বামী বিবাদী জাহিদ। বিষয়টি বাদী তার বাবা মাকে জানালে পরের দিন ৩০ নভেম্বর ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। বর্তমানে বাদী সুমাইয়া নিরাপত্তার জন্য তার বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিবাদী জাহিদ পরনারীতে আসক্ত। ইতোপুর্বেও তিনি তার ছাত্রীসহ সুন্দরী নারীদের প্রতি আসক্ত হন। তার একাধিক স্ত্রী রয়েছে বলে জানা যায়। তার এসব কর্মকান্ডে বাঁধা দিলেও স্ত্রী সুমাইয়ার উপর অত্যাচার করতো।
এসব বিষয় নিয়ে বিবাদী জাহিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সুমাইয়া তার স্ত্রী। তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বাদী সুমাইয়া আক্তার মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, আমার যৌতুক লোভী অত্যাচারী স্বামীর বিচারের জন্য আদালতে মামলা করছি। আমি তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।
Shohidul Islam
SOMAJER ALO24