নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহের আঞ্চলিক একটি দৈনিক পত্রিকার মালিকানা ও সম্পাদকীয় পদবি জালিয়াতি করে কোটি টাকা আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ময়মনসিংহের আঞ্চলিক দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর ভুয়া মালিক সেজে বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে এই চক্রের হোতা মো. খায়রুল আলম রফিক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রথমে ঢাকা জেলা প্রশাসক এবং সর্বশেষ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্টের রুল ও থানায় জিডি থাকার পরও এই চক্রটি রাজধানীর ফার্মগেটে অবৈধভাবে অফিস খুলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন লঙ্ঘন করে ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকাটির প্রকৃত সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুল হাসান রতনের নাম আড়াল করে খায়রুল আলম রফিক নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং তার স্ত্রী মোসাঃ ইয়াসমিন শিলা নিজেকে সম্পাদক ও প্রকাশক দাবি করছেন। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তারা দৈনিক ‘প্রলয়’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অফিস ডেকোরেশন ও বিনিয়োগের নামে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত খায়রুল আলম রফিক ও তার চক্রটি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে জাহির করেন। এই প্রভাব খাটিয়ে তারা বিভিন্ন মফস্বল এলাকার সহজ-সরল তরুণদের হাতে ভুয়া আইডি কার্ড ও সার্টিফিকেট তুলে দিয়ে ‘প্রতিনিধি নিয়োগ’ বাণিজ্য করছেন। তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন বলে আইজিপি বরাবর দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পত্রিকাটির মালিকানা নিয়ে জালিয়াতি ধরা পড়লে ভুক্তভোগীরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। এর প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রিট পিটিশন (নং- ১৮২৫১/২০২৩)-এর ভিত্তিতে ৫ নং বিবাদী খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। এছাড়া তেজগাঁও থানায় তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরিও (জিডি নং- ২৬৮) করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে এই চক্রটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের হয়রানি করছে।
তথ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সূত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মধ্যে যথাযথ নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করায় আইনত পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিলযোগ্য। অথচ অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে পত্রিকাটির প্রিন্টিং লাইনে ভুয়া নাম ব্যবহার করে প্রকাশনা অব্যাহত রেখেছে।
অভিযোগকারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি এই চক্রের প্রশাসনিক ও আইনি জালিয়াতির সকল প্রমাণসহ আইজিপি এবং জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি। এরা সাংবাদিকতার মহান পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধমূলক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। দ্রুত এদের গ্রেপ্তার না করলে আরও অনেক মানুষ সর্বস্বান্ত হবে।” বর্তমানে চক্রটি ফার্মগেট এলাকার ইন্দিরা রোডের একটি ভবন থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী শহিদুল ইসলাম।

Shohidul Islam
SOMAJER ALO24