চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় এক ভাড়াটিয়া নারীকে মারধর, অশালীন গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিক মোহাম্মদ সিকান্দরের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ঈদের মার্কেটিং শেষে রাত আনুমানিক ৩টার সময় ছোট ভাই মিজানুর রহমান মাঝিসহ বাসায় ফিরে দেখেন ওয়াশরুম ও পাকঘরে পানি নেই। পরে স্বামী মুজিবুর রহমান চৌধুরী’র সঙ্গে পানি সরবরাহের সুইচ চালু করলে পানি স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ শুরু হয়।
কিন্তু পানির শব্দ শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির মালিক অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। বিষয়টি জানার চেষ্টা করলে তার স্বামীকেও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তাদের জোরপূর্বক বাসা থেকে বের করার হুমকি দেওয়া হয় এবং বাসা না ছাড়লে শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পতেঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগ রয়েছে, জিডি করার পর অভিযুক্ত আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখেন।
এদিকে, গত ৩০ মার্চ রাত ১০টা ১৯ মিনিটে ০১৮৩০-০৪৩৪০৬ নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন আসে। ফোন রিসিভ করলে পরিচয় দেন বাড়ির মালিকের ছোট ভাই মিজানুর রহমান। রাত ১০টা ২৬ মিনিটে তিনি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে হুমকি দেন যে, ভুক্তভোগীদের জোরপূর্বক বাসা থেকে বের করা হবে এবং পরদিন (৩১ মার্চ) গুন্ডা-পান্ডা দিয়ে উচ্ছেদ করা হবে। পরবর্তীতে রাত ১০টা ৫১ মিনিটে পুনরায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে ভুক্তভোগী পরিবার পতেঙ্গা থানায় জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে পতেঙ্গা থানার এসআই জিল্লুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে কেটে দেওয়া পানির লাইন ও বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি: বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলও বলেন, এ ধরনের ঘটনা ভাড়াটিয়াদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরও বেড়ে যেতে পারে।
Shohidul Islam
SOMAJER ALO24