
সিসা দূষণের কারণে দেশে তৈরি হওয়া নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত “মাল্টিসেক্টরাল স্টিয়ারিং কমিটি”-র সভায় খসড়া কৌশলপত্র পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, শিশু ও শ্রমিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সিসার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় এই কৌশলপত্রকে একটি জরুরি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সারা দেশে সিসার সংস্পর্শ হ্রাস, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণই কৌশলপত্রের মূল লক্ষ্য।
কৌশলপত্রে পরিবেশে সিসার উৎস—সিসাযুক্ত রঙ, অনুমোদনহীন ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি (ULAB) পুনর্ব্যবহার, সিসাযুক্ত রান্নার সরঞ্জাম, খেলনা ও শিল্পজাত পণ্য—নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ই-রিকশাসহ ব্যাটারি-চালিত যানবাহনের দ্রুত বিস্তারের ফলে বেড়ে যাওয়া ই-বর্জ্যকে একটি গুরুতর পরিবেশগত ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবস্থাপনার দিকনির্দেশনাও যুক্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পাঠ্যক্রম সংশোধন, শিল্প নীতিমালা, শ্রম সুরক্ষা, পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রচেষ্টাকে একীভূত করেই কৌশলপত্রের চূড়ান্ত রূপ তৈরি করা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, উপসচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু, সিসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান, এবং স্বাস্থ্য, শ্রম, কৃষি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।
এছাড়া সভায় ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং পিওর আর্থের প্রতিনিধিগণও অংশ নেন।
সভায় সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন,
“জাতীয় কৌশলপত্রটি চূড়ান্ত হলে শিশু ও শ্রমিকসহ দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সিসা দূষণের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। এটি একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
Somajer Alo24