পাশ্চাত্যকে ‘মিথ্যার সাম্রাজ্য’ বলে অভিহিত করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ইউক্রেনকে বিজয়ী করতে পশ্চিমারা এক হয়ে লড়ছে বলেও সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে অভিযোগ করেন তিনি। জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিশ্বনেতাদের পদচারণায় মুখর নিউইয়র্কের সদর দপ্তর। যেখানে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কিয়েভের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ে কৌশলে চেষ্টা চালায়। এ প্রসঙ্গে শনিবার ল্যাভরভ বলেন, বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমাদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার অধীনস্থ মিত্ররা দ্বন্দ্ব প্রতিনিয়ত উসকে দিচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করছে। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সামরিক মহড়ার বিষয়টি তুলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ন্যাটো রাশিয়ার বিরুদ্ধে হামলা চালানোর লক্ষ্যে পরমাণু অস্ত্রের মহড়াও চালিয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউরোপে এমন মহড়া নজিরবিহীন।
ভাষণের পর সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ১০ দফার একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরীয় খাদ্যশস্য চুক্তি ফের পুনরুজ্জীবিত করতে জাতিসংঘের প্রস্তাব নাকচ করে বলেন, এই চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন অসম্ভব। কেন সম্ভব নয়, তা সবাই বুঝে গেছে। কিন্তু তারা (পশ্চিমারা) বলে, এই চুক্তির মধ্য দিয়েই আলোচনায় ফেরার একমাত্র পথ।
নানা অজুহাত দেখিয়ে সম্প্রতি চুক্তি থেকে সরে আসে মস্কো। দেশটির অভিযোগ, রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বন্ধ করছে না পশ্চিমারা।
গত বছরের নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি ২০ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্যে ১০ দফা প্রস্তাব রাখেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তার প্রস্তাবে রয়েছেÑ পরমাণু নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, বন্দি বিনিময় ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের বাস্তবায়ন। রুশ সেনা প্রত্যাহার, পরিবেশ রক্ষা, সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধাপরাধের বিচার ও যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা। সূত্র : আল-জাজিরা।
Shohidul Islam
SOMAJER ALO24