
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বিডি ২৪ লাইভ ডটকম’-এর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রবেশের গ্যালারি পাস পেয়েছেন ময়মনসিংহ অঞ্চলভিত্তিক পত্রিকা ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর কথিত সম্পাদক মো. খাইরুল আলম রফিক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই এই পাসের ছবি শেয়ার করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। তবে একজন সম্পাদক হয়েও অনলাইন পোর্টালের প্রতিনিধি হিসেবে পাস সংগ্রহ এবং তার বিতর্কিত অতীত নিয়ে সাংবাদিক মহলে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকাটির মালিকানা এবং সম্পাদকীয় পদ নিয়ে বর্তমানে আইনি জটিলতা চলছে। এই বিষয়ে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে রুল জারি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পত্রিকাটির নামে বৈধ কোনো গ্যালারি পাস না পেয়ে কৌশলে অনলাইন পোর্টালের নাম ব্যবহার করে এই সুযোগ নিয়েছেন তিনি। একজন ‘সম্পাদক’ পদধারী ব্যক্তি কীভাবে অন্য একটি অনলাইন পোর্টালের ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ হিসেবে পাস গ্রহণ করেন, তা নিয়ে খোদ তার নিজ জেলা ময়মনসিংহেও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৪ সালে খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করার গুরুতর অভিযোগগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, বিগত সরকারের ‘ফ্যাসিবাদী’ নীতিকে সমর্থন দিয়ে তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পূর্বের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং উস্কানিমূলক পোস্ট নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুয়া সম্পাদকীয় পরিচয় এবং মালিকানা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে ইতোমধ্যেই ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকাটিতে কর্মরত অনেক সংবাদকর্মী কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক সংবাদকর্মী জানান, “নীতিগত কারণে এবং পরিচয় সংকটে আমরা সেখানে কাজ করা অসম্ভব মনে করছি।”
সংসদ অধিবেশনের গ্যালারি পাস পেলেও রফিকের অধিবেশনে উপস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের ধারণা, বিগত আন্দোলনে তার বিতর্কিত ভূমিকা এবং ফ্যাসিবাদী অবস্থানের কারণে সংসদ এলাকায় প্রবেশকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেফতার হতে পারেন। এই আশঙ্কায় তিনি শেষ পর্যন্ত অধিবেশনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে অনলাইন পোর্টাল বিডি ২৪ লাইভ কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
Somajer Alo24