শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৬তম আসর ২৫ এপ্রিল

লিয়াকত হোসেন লিমন
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৩৯৪ Time View

 

লিয়াকত হোসেন লিমন, চট্টগ্রাম:
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলীখেলার ১১৬তম আসর বসতে চলছে আগামী (২৫ এপ্রিল) শুক্রবার।

এদিন বিকাল ৪টায় ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে তৈরি বিশেষ মঞ্চে লড়বেন বলীরা। প্রতিবছরের মতো এবারও বলীখেলা ঘিরে ২৪, ২৫ ও ২৬ এপ্রিল বসছে দেশের অন্যতম বড় বৈশাখী মেলা। তবে এবার প্রধান সড়কে (আন্দরকিল্লা থেকে কোর্ট বিল্ডিং পর্যন্ত) মেলার স্টল বসতে দেওয়া হচ্ছে না
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১২টায় নগরের লালদীঘিপাড়স্থ সিটি করপোরেশন লাইব্রেরি মিলনায়তনে আব্দুল জব্বারের বলীখেলার ১১৬তম আসর উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব শওকত আনোয়ার বাদল। ‘প্রায় ১১৫ বছর আগে চট্টগ্রাম শহরের বদরপাতির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমার দাদা আব্দুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে ১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ লালদীঘি ময়দানে এই বলীখেলা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় জীবিত থাকতে তিনি, এরপর আমার মরহুম বাবা; ১৯৮৬ সাল থেকে আমি এবং ভাইয়েরা চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ ২৫ এপ্রিল বলীখেলা আয়োজন করে আসছি। এবারের বলীখেলার আসর ১১৬ তম। এতে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বলীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও বলীখেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০০ জন বলী যোগাযোগ করেছেন। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক বলীর জন্য সম্মানি থাকবে।’

চ্যাম্পিয়ন বলীর জন্য তিনি বলেন, ‘যারা অংশগ্রহণ করবে তাদের জন্য সম্মানি রয়েছে। আর চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ, তৃতীয় ও চতুর্থ যারা হবেন, তাদের আকর্ষণীয় সম্মানি দেওয়া হবে। পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপের জন্য ট্রফি তো থাকছেই। তবে
প্রধান সড়কে বসছে না মেলা

সংবাদ সম্মেলনে শওকত আনোয়ার বাদল জানান, লালদীঘি মাঠে বলীখেলার জন্য মূল রিং স্থাপন করা হবে। নগরের কোতোয়ালী মোড়, আন্দরকিল্লা, সিনেমা প্যালেস ও বদরপাতি এলাকা ঘিরে বসবে বৈশাখী মেলার শতাধিক স্টল। শিশুর পুতুল-খেলনা থেকে শুরু করে খাবার, হস্তশিল্প, পোশাক, কসমেটিকসহ নানান সামগ্রী পাওয়া যাবে মেলায়।

তবে নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্দরকিল্লা থেকে কোর্ট বিল্ডিং পর্যন্ত প্রধান সড়কে মেলার স্টল না বসানোর পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। দোকান বিক্রি, দখল, চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রামের সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠা এই আয়োজনকে ঘিরে এবারও তিন দিনের বৈশাখী মেলায় নানা আয়োজন থাকছে। গ্রামীণফোন এবারের বলীখেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। বলীখেলা উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আব্দুল জব্বারের বলীখেলার ১১৬ তম আসর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন…
এদিকে জব্বারের বলীখেলাকে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে লালদীঘি চত্বরকে তার স্মৃতিরক্ষায় নামকরণ এবং বলীখেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল রিজিয়নের রিজিওনাল হেড মোহাম্মদ মোরশেদ আহমেদ বলেন, ‘জব্বারের বলীখেলার মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় আয়োজনে অংশ হতে পেরে গ্রামীণফোন গর্বিত। এর আগেও আমরা এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক ছিলাম। আমরা স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এমন আয়োজনের পাশে থাকতে সংকল্পবদ্ধ গ্রামীণফোন।’
বলীখেলা ও বৈশাখী মেলাকে ঘিরে দূর-দূরান্ত থেকে

প্রধান সড়কের মেলা বসতে না দেয়া অনেকে অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে

বলীখেলার ১১৬ বছর, জব্বারের ‘সম্মানার্থে’ হয়নি কিছুই

জব্বারের বলীখেলা ও মেলা চট্টগ্রামের ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং বিনোদনের অংশ হয়ে গেছে। যা এখন দেশের বৃহত্তম বার্ষিক লোক উৎসব হিসেবে পরিণত হয়েছে। আর প্রতিবছর এ খেলাকে ঘিরে আয়ও হয় বেশ। তবে খেলা-মেলা শেষের পরই আয়ের হিসাব হাওয়ায় মিশে যায়। অন্যদিকে এত বছরেও খোদ জব্বারের ‘সম্মানার্থে’ কিছুই করা হয়নি।

 

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ বলেন, ‘পেছনের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। এ খেলার আয়োজন করতে গিয়ে যদি বাণিজ্যিক স্বার্থ, ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিই বা শুধু বিনোদনের অংশ হিসেবে প্রাধান্য দিই; তাহলে আব্দুল জব্বারের স্মৃতির প্রতি এবং এই ঐতিহাসিক খেলার প্রতি অবিচার হবে। এ বলীখেলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং মর্যাদা ধরে রাখতে হবে। তাহলে এটা যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল রিজিয়নের রিজিওনাল হেড মো. মোরশেদ আহমেদ, বিজনেস সার্কেলের মার্কেট কমিউনিকেশন প্রধান মো. আব্দুল্লাহ আল নূর, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহেদুল করিম কচিসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Advertise

Ads

Address

প্রধান কার্যালয় :৩৭৯/৩ কলেজ রোড (আমতলা) আশকোনা ঢাকা - ১২৩০ Email:somajeralonews24@gmail.com Contact  :01823634261 Office:01924751182(WhatsApp) Video editor :01749481920
© All rights reserved 2023

Somajer Alo24