
‘ছাড়িয়া যাইয়ো না বন্ধু মায়া লাগাইয়া’ ‘আসমানে যাইয়ো নারে বন্ধু’ সহ পাগল হাসানের অনেক গান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ফোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী পাগল হাসানসহ (মতিউর রহমান হাসান) দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ (১৮ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় সুরমা সেতুর টোল প্লাজার কাছে বাসের সঙ্গে-অটোরিকশার সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান ছাতক থানার ওসি মো. শাহ আলম।
ওসি বলেন, কালারুকা ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের সংগীতশিল্পী পাগল হাসান বৃহস্পতিবার সকালে তার কয়েকজন স্বজনকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছাতকে আসছিলেন।
পথে সুরমা সেতুর টোল প্লাজার কাছে গোবিন্দগঞ্জ থেকে দোয়ারাবাজারমুখি বাসের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।
“ঘটনাস্থলেই মারা যান শিল্পী পাগল হাসান। গুরুতর আহত হন তার সঙ্গে থাকা তিন জন। তাদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আব্দুস সাত্তারকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।”আহত অপর দু’জনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গীতিকার, শিল্পী, সুরকার মতিউর রহমান হাসানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সুনামগঞ্জের সংস্কৃতি অঙ্গন।‘পাগল হাসান’ নামে খ্যাতি অর্জন করা ৩৬ বছর বয়সী এই ফোক গানের শিল্পী সামাজিক মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন।
তার ‘ছাড়িয়া যাইয়ো না বন্ধু মায়া লাগাইয়া’ ‘আসমানে যাইয়ো নারে বন্ধু’ ‘আমি এক পাপিষ্ঠ বান্দা’ ‘রেলগাড়ির ইঞ্জিন’ সহ অনেক গান ফেইসবুক, ইউটিউব, টিকটক, লাইকিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল আবেদিন বলেন, “পাগল হাসান একজন সম্ভাবনাময় শিল্পী ছিলেন। তার কণ্ঠে ফোকগান অন্যরকম আবেদন সৃষ্টি করতো। সে নিজে গান বাঁধতো, সুর করতো এবং গাইতো।
“একজন সব্যসাচী উদীয়মান সংগীতশিল্পী ছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিভিন্ন গান ভাইরাল হয়েছে, পাশাপাশি সংগীত বোদ্ধারাও এই নতুন শিল্পীর গানে মুগ্ধ ছিলেন। তাকে হারিয়ে শিল্পীসমাজ শোকে স্তব্ধ।”
Somajer Alo24